Currently set to Index
Currently set to Follow
বই রিভিউ ও ডাউনলোড

শেখ মুজিবুর রহমান জীবনী Pdf

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ই মার্চ ১৯২০–১৫ই আগস্ট ১৯৭৫), সংক্ষিপ্তাকারে শেখ মুজিব বা বঙ্গবন্ধু, ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশের “জাতির জনক” বা “জাতির পিতা” হিসেবে অভিহিত করা হয়।[২] এছাড়াও তাকে প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৩] জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবেই অধিক পরিচিত। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

১৯২০-১৯৩৮-১৯৭৫ : সংক্ষেপে বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তিগত  ও রাজনৈতিক জীবন শেখ মুজিবুর রহমান জীবনী Pdf – Download

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হন।[৪] সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।[৫] ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়; তবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।[৬] ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে; তা সত্ত্বেও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়নি।

পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা চালায়। ফলশ্রুতিতে, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।[৭] ব্রিগেডিয়ার রহিমুদ্দিন খানের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও তা কার্যকর করা হয়নি।[৮][৯] নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে “বাংলাদেশ” নামক স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[১০] মতাদর্শগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন; যা সম্মিলিতভাবে মুজিববাদ নামে পরিচিত। এগুলোর উপর ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং তদানুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বত্র অরাজকতাসহ ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হন। এর সাত মাস পরে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি কর্তৃক পরিচালিত জনমত জরিপে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত হন.

 

উল্লাস ও শোক
লেখা: সাইক
ভারত ও বাংলাদেশ দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের দুটি দেশে প্রচলিত রয়েছে একই বাংলা ভাষা, একই হৃদয়ের অনুভূতি এবং একই সংস্কৃতি। কিন্তু ১৫ ই আগস্ট এমন একটি দিন, যে দিনে আমাদের দুটি রাষ্ট্রের জনগণের হৃদয়ে বয়ে চলে ভিন্ন ও বিপরীত দুটি অনুভূতি। এই দিনে এপারের মানুষ যেখানে শোকের তীব্র অনলে দগ্ধীভূত হয়, সেখানে কাঁটাতার পেরিয়ে ওপারে গেলেই দেখতে পাবো স্বাধীনতা লাভের অস্বাদিত এক স্বর্গীয় উল্লাস।
ভারতীয়রা ব্রিটিশ শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল প্রায় দুইশত বছর। ব্রিটিশরা এদেশে সেই মোগল আমলে বাণিজ্য করার অজুহাতে এদেশে এসে শিকড় গাড়তে শুরু করে। এরপর ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলাকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে একচ্ছত্র অধিপতি কায়েম করে ব্রিটিশরা। এরপরে অবশ্য আরো কয়েকটা বিদ্রোহ বা যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল ব্রিটিশদের সাথে। সিপাহী বিদ্রোহ, বক্সারের যুদ্ধ এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ব্রিটিশ করকবল থেকে দেশকে মুক্ত করার করার জন্য অনেক বিপ্লবী বীর আত্মোৎসর্গ করেছেন। বালক ক্ষুদিরাম ও ভগৎ সিং কে ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গেয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেন। উঠে আসে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া মাস্টার দা সূর্য সেনের নাম, যিনি ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলিদান করেন। মীর নিসার আলী বা তিতুমীর বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম যিনি বাঁশের কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
এভাবে ব্রিটিশদের অত্যাচার যখন চরম সীমায় পৌঁছেছিল, তখন গান্ধীজী এক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। কিন্তু এই আন্দোলন যদিও ফলপ্রসূ হয়নি। এরপর অন্যতম বাঙালি বিপ্লবী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রিটিশদের উৎখাত করার জন্য গঠন করে আজাদ হিন্দ গঠন করেন।
এরপর ১৯৩০ এর পর ভারতের মানুষ ব্রিটিশদের নিকট থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য লালায়িত হয়ে ওঠে এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপে প্রতিবাদ শুরু হয়। ব্রিটিশ সরকারও তখন চেষ্টা করে সেই আন্দোলন দমিয়ে রাখার জন্য। সেসময় নেতাজিসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তখনকার সে প্রবল আন্দোলন আর রোখা সম্ভবপর হয়নি।
অবশেষে অজস্র বীর বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ভারতীয়রা পায় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
এরপর থেকে ভারতীয়রা প্রতিবছর গভীর শ্রদ্ধা ও উচ্ছ্বাসের সাথে পালন করে এই দিনটি।
এই দিনটি পৃথিবীর ইতিহাসে শুধুমাত্র ভারতের স্বাধীনতার জন্য স্মরণীয় নয়, ১৯৭৫ এই দিনের বাংলাদেশে ঘটে নারকীয় হত্যাকাণ্ড। ১৯৭৫ সালের এই দিনের ভোর রাতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রাহমানকে একদল বিপথগামী সেনাবাহিনী কর্তৃক সপরিবারে হত্যা করা হয়।
ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মেজ ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ছোট ছেলে শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত ও ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু ও আত্মীয় বেন্টু খান,বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক ও এসবি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
সেদিনের সেইসব ঘাতকদের অনেককে বিচারের আওতায় এনে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেকে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পরিশেষে আজকের এইদিনে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা আত্মোৎসর্গ করেছে এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ যারা সেই কালরাতে শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের সকলের বিদেহী পুণ্যাত্মার মঙ্গল কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button